পোস্ট করলেন খামেনী, তবে কি তিনি মরেননি?...see more
পোস্ট করলেন খামেনী, তবে কি তিনি মরেননি?
পোস্ট করলেন খামেনী, তবে কি তিনি মরেননি?
মৃত মানুষের কণ্ঠ কি আবার যুদ্ধের ডাক দিতে পারে? ইতিহাস বলছে—না। কিন্তু ডিজিটাল যুগে সেই অসম্ভব ঘটনাই যেন নতুন বাস্তবতা হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক এক ঘটনায়।
একটি ছবি আর কয়েকটি শব্দের পোস্ট ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে।
শুক্রবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)–এ একটি রহস্যময় পোস্ট সামনে আসে। পোস্টটি করা হয় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীর ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে। বিষয়টি আরও বিস্ময়কর এই কারণে যে কয়েকদিন আগেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়েছিল।
কিন্তু সেই অ্যাকাউন্ট থেকেই হঠাৎ দেখা যায় একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ছবি এবং কয়েকটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু আতঙ্ক জাগানো শব্দ।
ফার্সি ভাষায় লেখা ছিল— “খোররামশাহারের মুহূর্ত এখন দিগন্তে।”
এই একটি বাক্যই যেন নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে। কারণ “খোররামশাহার” কোনো সাধারণ শব্দ নয়। এটি ইরানের অন্যতম শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের নাম।
প্রায় ১৩ মিটার লম্বা এই ক্ষেপণাস্ত্র ১,০০০ থেকে ২,০০০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম। প্রায় ১,৮০০ কেজি ওজনের ওয়ারহেড বহন করতে পারে এই অস্ত্র, যা মুহূর্তেই বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ ঘটাতে সক্ষম।
পোস্টে থাকা ছবিতেও একই ধরনের ইঙ্গিত ছিল। সেখানে ফার্সি ভাষায় লেখা—এই অস্ত্র ইরানের তরুণদের তৈরি এবং এটি “ইহুদিবাদী শাসনের হৃদপিণ্ড গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম।”
বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল প্রতীকী বার্তা নাও হতে পারে। কারণ এই পোস্ট প্রকাশের মাত্র একদিন আগেই ইসরাইলে বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে।
তেলআবিবের কাছে অবস্থিত বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং পার্শ্ববর্তী একটি বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ইসরাইলি সামরিক সূত্রের দাবি, ওই হামলায় খোররামশাহার-৪ ধরনের মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ইরানের সামরিক বাহিনীও পরবর্তীতে হামলার দায় স্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় এক টন বিস্ফোরক বহনকারী ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ বেড়েছে। ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তেজনা বাড়ছে।
বিশেষ করে সাবেক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা প্রশ্ন তুলেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে। তাদের দাবি, কথিত “অপারেশন এপিক ফিউরি” হয়তো বড় কোনো কৌশলগত সামরিক পরিকল্পনা নয়; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সমর্থন আদায়ের প্রচেষ্টা হতে পারে।
তবে পুরো ঘটনার সবচেয়ে বড় রহস্য দাঁড়িয়েছে অন্য এক প্রশ্নে—যদি খামেনী সত্যিই মারা গিয়ে থাকেন, তাহলে তার এক্স অ্যাকাউন্টটি পরিচালনা করছে কে?
কেউ কেউ মনে করছেন, ইরানের সামরিক বা রাজনৈতিক কাঠামোর ভেতরের কোনো কট্টরপন্থী গোষ্ঠী এই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছে। আবার অন্য বিশ্লেষকদের মতে, এটি হতে পারে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ (Psychological Warfare)—যেখানে মৃত নেতার ডিজিটাল উপস্থিতিকেই ভয় ও বিভ্রান্তি তৈরির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এই ঘটনার প্রভাব শুধু রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্ববাজারেও এর প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে শুরু করেছে।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়লে বৈশ্বিক তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। ভারত মহাসাগর থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে ইতিমধ্যেই সামরিক তৎপরতা বেড়েছে।
এমনকি ভারতের কিছু নৌঘাঁটি ব্যবহারের গুজবও ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত সেই তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি।
©
─দৈনিক জনকণ্ঠ
প্রকাশিত: ২৩:৫২, ৬ মার্চ ২০২৬
[=]
🎁 Your Special Offer is Loading...
Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.
⏳ Stay here — your offer will open in a new page.
✅ Redirect happens only once per session.

Comments
Post a Comment