শ্বশুর মারা গেছেন অনেক আগেই। এখন এই বাড়িতে আমরা চারজন থাকি...See more

শ্বশুর মারা গেছেন অনেক আগেই। এখন এই বাড়িতে আমরা চারজন থাকি—



 শ্বাশুড়ির গো/পন কথা!






আমার নাম অনন্যা। বিয়ের পর আজ প্রায় আট মাস হলো আমি এই বাড়িতে এসেছি। আমাদের বাড়িটা ময়মনসিংহ জেলার এক শান্ত গ্রামে।




বড় একটা পুরোনো দোতলা বাড়ি। উঠানে বিশাল আমগাছ, পেছনে ছোট একটা পুকুর, আর চারদিকে সারি সারি নারকেল গাছ। বিকেলের সময় হালকা বাতাস বইলে জায়গাটা যেন অন্যরকম শান্ত লাগে।




শ্বশুর মারা গেছেন অনেক আগেই। এখন এই বাড়িতে আমরা চারজন থাকি—


আমি, আমার স্বামী সোহেল, ছোট ননদ তৃষা আর আমার শ্বাশুড়ি।




শ্বাশুড়ির বয়স প্রায় ষাটের কাছাকাছি। কিন্তু গত দুই বছর ধরে তিনি খুব অসুস্থ। ঠিকমতো হাঁটতে পারেন না। অনেক সময় বিছানাতেই থাকতে হয়।




তাই বাড়ির বেশিরভাগ সময় আমি তার দেখাশোনা করি।




শুরুতে একটু অস্বস্তি লাগত। কিন্তু ধীরে ধীরে মনে হলো— উনিও তো আমার নিজের মায়ের মতোই।




---




সেদিন দুপুরের ঘটনা




সেদিন আকাশে হালকা মেঘ ছিল। সকাল থেকে গুমোট গরম।




আমি রান্না শেষ করে ঘরে ঢুকতেই শুনলাম শ্বাশুড়ি আমাকে ডাকছেন—




— “অনন্যা মা…”


আমি কাছে গিয়ে বললাম,


— “জি মা, কিছু লাগবে?”


তিনি একটু লজ্জা পেয়ে বললেন—




— “আমাকে একটু গোসল করিয়ে দিবি? অনেকদিন হলো ভালো করে গোসল করা হয়নি।”




আমি হেসে বললাম—


— “এই তো মা, সমস্যা কি! চলেন।”


আমরা বাড়ির ভেতরের বাথরুমেই তাকে গোসল করাই। সোহেল সেখানে একটা ছোট প্লাস্টিকের চেয়ার এনে দিয়েছে।




আমি ধীরে ধীরে তাকে ধরে বাথরুমে নিয়ে গেলাম। তিনি খুব দুর্বল ছিলেন। হাঁটতে কষ্ট হচ্ছিল।




চেয়ারে বসিয়ে আমি ধীরে ধীরে মাথায় পানি ঢালতে শুরু করলাম।


শ্বাশুড়ি চুপচাপ বসে ছিলেন।


কিন্তু কিছুক্ষণ পর আমার চোখ হঠাৎ আটকে গেল একটা জায়গায়।




তার পিঠের নিচের দিকে একটা অদ্ভুত দাগ।




দাগটা সাধারণ কোনো দাগ না। যেন অনেক পুরোনো পোড়া দাগের মতো।


আমি একটু অবাক হলাম।


কারণ এই বাড়িতে আসার পর কখনো এমন দাগ আমি দেখিনি।




আমি সাবধানে জিজ্ঞেস করলাম—


— “মা… আপনার পিঠে এই দাগটা কীভাবে হলো?”




প্রশ্নটা শুনেই তিনি হঠাৎ চুপ হয়ে গেলেন।




আমি স্পষ্ট বুঝলাম তার শরীরটা হালকা কেঁপে উঠলো।


কিছুক্ষণ তিনি কোনো কথা বললেন না।




আমি ভাবলাম হয়তো পুরোনো কোনো দুর্ঘটনা।


আবার জিজ্ঞেস করলাম—


— “মা, ব্যথা করে নাকি?”


তিনি ধীরে ধীরে বললেন—


— “অনন্যা… তুই এটা কাউকে বলবি না তো?”


আমি অবাক হয়ে গেলাম।


— “কেন মা?”


তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।


তার চোখে তখন অদ্ভুত এক ভয়।




— “এই দাগটার কথা এই বাড়িতে কেউ জানে না…”




আমার হাত থেমে গেল।


— “কি বলছেন মা? কেউ জানে না মানে?”


তিনি মাথা নিচু করে বললেন—


— “যদি জানে… তাহলে এই বাড়িতে বড় ঝড় উঠবে।”


আমার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠলো।


আমি একটু হেসে বললাম—


— “আরে মা, এমন কী ব্যাপার!”




কিন্তু তিনি হঠাৎ আমার হাত শক্ত করে ধরে ফেললেন।


তার হাতটা খুব ঠান্ডা।


— “অনন্যা… তুই ভালো মেয়ে। তাই তোকে বলছি।”


বাথরুমের ছোট জানালা দিয়ে তখন বিকেলের আলো ঢুকছিল। সেই আলোয় আমি তার পিঠের দাগটা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম।




তিনি খুব আস্তে বললেন—


— “এই দাগটা আগুনের না…”


আমি অবাক হয়ে বললাম—




— “তাহলে?”


তিনি কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থাকলেন।


তারপর এমন একটা কথা বললেন—যেটা শুনে আমার মাথা যেন ঘুরে উঠলো।


— “এই দাগটা হয়েছে… যখন আমাকে মেরে ফেলতে চেষ্টা করা হয়েছিল।”




আমার হাত থেকে মগটা প্রায় পড়ে যাচ্ছিল।


— “কি বলছেন মা!”


তিনি চোখ বন্ধ করলেন।


— “হ্যাঁ… আমাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল কেউ।”


আমার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।




— “কে?”


তিনি ধীরে ধীরে আমার দিকে তাকালেন।


তার চোখে তখন অদ্ভুত এক দুঃখ।


— “এই বাড়িরই একজন…”


আমার গলা শুকিয়ে গেল।


আমি কাঁপা গলায় বললাম—


— “কে মা?”


তিনি উত্তর দিলেন না।


বরং বললেন—




— “যেদিন তুই পুরো সত্যিটা জানবি… তুই নিজেই অবাক হয়ে যাবি।”


ঠিক তখনই বাইরে থেকে তৃষার ডাক এল—


— “ভাবি! ভাবি!”


আমি বললাম—


— “কি হয়েছে?”


তৃষা বললো—


— “ভাইয়া এসে গেছে!”


আমি শ্বাশুড়ির দিকে তাকালাম।


তিনি ফিসফিস করে বললেন—


— “অনন্যা… আজ যা শুনলি, কাউকে বলবি না।”


তারপর আরও নিচু গলায় বললেন—


— “কারণ… যার কথা বলবো… সে এখনো এই বাড়িতেই আছে।”




আমার বুক ধড়ফড় করতে লাগলো।


কারণ সেই মুহূর্তে আমার মনে একটা ভয়ংকর সন্দেহ জন্ম নিলো।


যদি সেই মানুষটা…


আমার স্বামী সোহেল হয়?


আমি থমকে দাঁড়িয়ে রইলাম।


ঠিক তখনই বাইরে থেকে সোহেলের গলার শব্দ শোনা গেল—




— “অনন্যা! কোথায় তুমি?”


আমি দরজার দিকে তাকালাম।


হঠাৎ মনে হলো…


এই বাড়ির ভেতরে এমন একটা রহস্য লুকিয়ে আছে—


যেটা জানলে হয়তো পুরো পরিবারটাই বদলে যাবে।




আর সেই রহস্যের শুরু…


আমার শ্বাশুড়ির পিঠের ওই দাগ।


চলবে…




অবশ্যই দ্বিতীয় পর্ব পেতে হলে আমাদের পেজটি ফলো করে সাথে থাকুন। খুব শীঘ্রই আসছে পরবর্তী পর্ব।


✅✅✅

🎁 Your Special Offer is Loading...

Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.

10s

⏳ Stay here — your offer will open in a new page.
✅ Redirect happens only once per session.

Comments

Popular posts from this blog

১১৬ টা কেন্দ্রের তারেক রহমান এর রেজাল্ট দেখে নিন

জামাতের আমিরের রিজাল্ট দেখে নিন

১১৬ টা কেন্দ্রের তারেক রহমান এর রেজাল্ট দেখে নিন